প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরে ১০ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার দায়ে ২৬ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম নামের এক ইমামকে ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
রোববার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আরিফুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের খবির মোল্যার ছেলে। তিনি নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং শিশুদের মক্তবের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মসজিদের মাইকের মাধ্যমে শিশুদের ডাকতেন। ঘটনার দিন, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর, বৃষ্টির কারণে তিনি মাইকে ডাকেননি। এর মধ্যে ভুক্তভোগী শিশুটি মসজিদে চলে যায়। পরে, শিশুটিকে একা পেয়ে তিনি পা টিপাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গোপনাঙ্গ ধরিয়ে বিকৃত আচরণ করতে থাকেন। এছাড়া, শিশুটির পরিহিত প্যান্ট খুলে বলাৎকারের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে শিশুটির শরীরের ওপর বীর্যপাত ঘটান। ওই সময় শিশুটি কৌশলে দরজা খুলে দৌঁড়ে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়।
এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মসজিদে গিয়ে আরিফুল ইসলামকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায়, ওই দিন নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুটির মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম একই বছরের ১৭ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় প্রদান করেছেন।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছে। রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে, যাদের দায়িত্ব ছিল শিশুদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার, তাদের দ্বারা এ ধরনের অপকর্ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। সুতরাং, এ রায়ের মাধ্যমে সমাজ এমন অপকর্ম থেকে রক্ষা পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন