প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহ নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার আলোচিত রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে ‘কাইল্যা রুবেল’ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর দ্বারা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাড়িওয়ালাকে মারধর করা ও শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতে ওই নারীর চার ছেলে মিলে ভাড়াটিয়া রুবেলকে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক দিনের মধ্যেই জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে।
পিবিআই জানায়, নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা পারুলের বাসায় প্রায় এক মাস আগে একটি কক্ষ ভাড়া নেন রুবেল। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন ও কেনাবেচা করতেন। এ নিয়ে বাড়ির মালিক পারুল সহ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রুবেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে, পারুল তাকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে রুবেল প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলে জনির কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর করেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির বিষয়টি অন্য তিন ভাইকে জানান পারুলের ছেলে জনি।
এরপর পূর্ববিরোধ এবং মাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে চার ভাই একত্রে রুবেলের ঘরে যান। সেখানে তাকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর পালিয়ে যান তারা।
এই হত্যার ঘটনায় রোববার রাতেই নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাড়িওয়ালা পারুল বেগমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দফতরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার গভীরে আরও কিছু রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন