প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি রাফিনিয়া। তবে চলতি মৌসুমে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। লা লিগার সাত ম্যাচে ১২টি গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অবস্থান করছেন, সঙ্গে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট। সর্বশেষ সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে টানা সপ্তম জয় এনে দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সেভিয়ার মাঠে বার্সেলোনা ৩-১ গোলের জয় লাভ করেছে। ইউসুফ ফোফানার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, প্রথমার্ধেই সমতা ফিরিয়ে আনেন রাফিনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে তিনি জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও, দলের শেষ দুই গোলে সহায়তা করেন আরেক তারকা লামিন ইয়ামাল।
প্রথমার্ধে দুই দলই সমানে সমান লড়াই করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বার্সেলোনা। রেসিং সান্তানদেরের বিপক্ষে ৭-২ গোলে জয়ী হওয়ার ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক।
ওই ম্যাচে প্রথমার্ধে হাঁটুতে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া মূল গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার জায়গায় দ্বিতীয়ার্ধে নামা ভয়চেখ স্ট্যান্সনির একটি বড় ভুলের কারণে গোল হজম করতে হয় দলকে। সেভিয়ার বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেয়ে এই ক্লাবের হয়ে অভিষেক হয় দমিনিক লিভাকোভিচের।
বার্সেলোনার শুরুটা ছিল ইতিবাচক। অষ্টম মিনিটে তারা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু ইয়ামালের বাঁ পায়ের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। উল্টো ১৯তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে বার্সেলোনা।
ম্যাচে নিজেদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় সেভিয়া। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ফেলিক্স কোররেয়ার চমৎকার ক্রসের মাধ্যমে কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠান ফরাসি মিডফিল্ডার ফোফানা।
বার্সেলোনা জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি। ২২তম মিনিটে অধিনায়ক হাফিনিয়া দলের জন্য সমতা ফেরান। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের পাস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে আরেক জনের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি।
৪৪তম মিনিটে বার্সেলোনার সামনে আরেকটি সুযোগ আসে, কিন্তু বক্সে ভালো পজিশনে বল পেয়ে শট নিতে পারেননি পেদ্রি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রদ্রির দৃঢ়তায় বার্সেলোনা রক্ষা পায়।
বক্সে ফাঁকায় বল পান কোররেয়া, কিন্তু গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি চমৎকার এক ট্যাকলে তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। ৫২তম মিনিটে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
সেভিয়ার বক্সে দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, দুই খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে ইয়ামাল চমৎকার ক্রস দেন, ছয় গজ বক্সের মুখে জোরাল হেডে জাল খুঁজে নেন হাফিনিয়া।
৬৪তম মিনিটে অলিম্পিক গোলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত রাফিনিয়ার। কর্নারে নেওয়া তার শটে বল গোলরক্ষকের একটু সামনে পড়ে বাঁক খেয়ে দূরের পোস্টে লাগে।
তবে হ্যাটট্রিকের জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। চার মিনিট পরই সেই স্বাদ পান তিনি। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ২৯ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড।
এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়ার গোল হলো সাত ম্যাচে ১২টি, সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে তিনটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে আট ম্যাচে তার গোল হলো ১৪টি। আগের ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।
৭৭তম মিনিটে রাফিনিয়াকে তুলে কারিম আডেইয়েমিকে নামান ফ্লিক। শেষ দিকে গোল পেতে পারতেন এই জার্মান উইঙ্গার, কিন্তু তার প্রচেষ্টা দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক।
বার্সেলোনা প্রথম সাত ম্যাচের সবকটি জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। একটি করে ম্যাচ কম খেলে সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় এবং রেয়াল বেতিস তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন