প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারিকরণের পরিকল্পনার কারণে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে তার পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল।
মঙ্গলবার ইসরায়েল ফিফা সভাপতির দায়িত্বে ইনফান্তিনোকে পুনর্নির্বাচনের সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়। আইএফএ সভাপতি মোশে জুয়ারেস একটি চিঠির মাধ্যমে ফিফার কাছে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইসরায়েল ১৯৯৪ সাল থেকে উয়েফার সদস্য হিসেবে রয়েছে। জুয়ারেস ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্যও বটে। সুতরাং উয়েফা ও ফিফার মধ্যে সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার নেতৃত্বাধীন সংস্থার এমন সিদ্ধান্তটি অপ্রত্যাশিত নয়।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো আশার ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একসঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
ইনফান্তিনো এখানেই থেমে থাকেননি। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন মুখোমুখি হবে বলে তার পরিকল্পনা রয়েছে। জুন মাসে এই বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আইএফএর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফা ও উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ তৈরি করেছে।
চিঠির মাধ্যমে মোশে জুয়ারেস দাবি করেছেন, দুই সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য এখন গভীর এবং মৌলিক ও নীতিগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইএফএ বোর্ড সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জুয়ারেস বলেন, ‘আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনা ফিরিয়ে আনবে।’
এর আগেই উয়েফার সদস্য ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল।
তবে এখনো বেশ কিছু শক্তিশালী ফুটবল সংস্থার সমর্থন ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফসহ কয়েকটি দেশ তাকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, ইনফান্তিনোকে সরানোর বিষয়ে চিন্তা করাও মারাত্মক ভুল হবে।
সবমিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক দেশের সমর্থন প্রত্যাহার করার প্রেক্ষাপটে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনায় কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন