প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমন জারি করেছেন আদালত।
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা গ্রাহকদের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ৫১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পরে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে নাছরিন আক্তার দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোস্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ এবং রোকসানা আক্তার।
আদালত মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেয়। বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ।
জানা গেছে, গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল অভিযুক্ত লেটার রাইটার শিহাব মৃধাকে ডাকঘর থেকে পেলেও তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে এসে অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। এই দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করছেন।
অন্যদিকে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট (তদন্ত) সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত), দক্ষিণাঞ্চল, খুলনা এবং কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সরকারি ক্ষতি হয়ে থাকলে তা সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি সরকারি কর্মচারী নন। তিনি বলেন, অভিযোগ রয়েছে, শিহাব মৃধা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রের পাসবই নিতে এসে বারবার না পাওয়ার অভিযোগ তুলতে থাকেন।
তিনি আরও জানান, তিনি গত ৬ জুলাই রাজবাড়ী ডাকঘরে যোগদান করেছেন এবং যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ মামলার পরামর্শ দেয়। পরে বিষয়টি কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় এবং সেখান থেকে খুলনা সার্কেল অফিসে জানানো হয়। বর্তমানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডাক অধিদপ্তর থেকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন