প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বর্তমানে বৈশ্বিক সার বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সারবাহী জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে, যা উদ্বেগের বিষয়। সেইসাথে নেপাল, শ্রীলঙ্কা সহ বিশ্বের অন্তত ১৮টি দেশ গুরুতর আমদানি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের জন্যও হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই নৌপথে সার পরিবহন কার্যত থমকে গিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সার সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরের বাইরে সারবাহী জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থাটা জুন মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে কিছু চালান চলাচল শুরু হলেও, স্বাভাবিক অবস্থায় তা এখনও ফিরতে পারেনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক সারের বাজারে প্রভাব দেখা দিয়েছে।
সংঘাত শুরুর আগে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ছিল প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু এপ্রিল মাসে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০ ডলারে। যদিও জুন মাসে দাম কিছুটা কমে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ৪৫৩ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সারের দাম প্রতিটনে ৫৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৭৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
ডব্লিউটিও জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের মোট নাইট্রোজেনভিত্তিক সার রফতানির ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফসফেট সার রফতানির ১১ দশমিক ৪ শতাংশ আসে। এবং এসব সারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এশিয়া, যেখানে বিশ্বের নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের ৪০ শতাংশ এবং ফসফেট সারের ৪৮ শতাংশ এশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ভারতের মোট নাইট্রোজেনভিত্তিক সার আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাইল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ আসে এই অঞ্চলের থেকেই।
ডব্লিউটিওর বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার আমদানি করা ৮১টি দেশের মধ্যে ১৮টি দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তালিকায় নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সতর্কবার্তা হলো, সার সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। তাতে খাদ্যপণ্যের দামেও প্রভাব ফেলবে, সাথে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন