প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় গোলাম সাকলাইনের বাড়ি অবস্থিত। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে অনার্স পড়াকালীন সময় থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কৃষি নিয়ে কিছু করার চিন্তা তার মনে চলতে থাকে। একদিন সাকলাইন রাজশাহীতে মৎস্য সপ্তাহের একটি অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে কর্মকর্তাদের মৎস্য চাষের বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তাকে আকৃষ্ট করে।
এরপর তিনি কীভাবে মাছ চাষে সফল হওয়া যায় সে সম্পর্কে কয়েকটি বই কিনে পড়েন। মাছ চাষ নিয়ে পড়াশোনা করার মাধ্যমে বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন তিনি।
সেই সময় এলাকায় তিনি মাত্র দুই বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। ৭ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে মাছ চাষ করে সেইবার তিনি লাভ অর্জন করেন ৬ হাজার টাকা। এরপর সাকলাইন আর পেছনে ফিরে তাকাননি। বর্তমানে তার ফার্মে ১ হাজার বিঘা জমিতে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে, যেখানে ১৫২ জন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় মাছ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই তার দেখাদেখি এই পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন। তবে বেশিরভাগ লোকই বছর চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করছেন। প্রতি বছরে বিঘা প্রতি জমির মালিককে দিতে হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বছর দশেক আগে বিঘা প্রতি লিজ মূল্য ছিল মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
নাটোরের গুরুদাসপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, এক সময় তিনি ধান, আলু, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করতেন। কোনো সময় ভালো দাম মিলতো আবার কখনো লসেও পড়তেন তিনি। ফলস্বরূপ, ফসলের চাষে তার আগ্রহ কমে গিয়েছিল। বিকল্প উপায়ে পরিবার নিয়ে ভালো থাকার চিন্তাভাবনা করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন অনেকেই মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন মাছ চাষ শুরু করার। পরিবার থেকে প্রথম দিকে কেউ বিষয়টি ভালোভাবে দেখেননি, কিন্তু মাছ চাষ শুরু করার পর তিনি যখন লাভবান হন, তখন পরিবার সহায়তা করতে শুরু করে। তিনি এক পর্যায়ে হাটি হাটি পা করে শুরু করলেও এখন তার দশটি পুকুর রয়েছে এবং বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৫ লাখ টাকা লাভ হয়।
নওগাঁর মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদার রবিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিদিন তার পুকুর থেকে দুই থেকে তিন মন মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এতে প্রতিদিন আসা টাকা দিয়ে তার সংসার ভালোভাবে চলে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, মিঠা পানির কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে দেশে রাজশাহী জেলা শীর্ষে রয়েছে। রাজশাহীর পর নাটোর ও নওগাঁয় মাছের উৎপাদন ও বেচাকেনা বেশি হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভাগের ৮টি জেলায় পুকুরের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩ টি। মাছ চাষীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৬ জন। এই অঞ্চলের পুকুরগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, সিলভার কার্প, পাবদা, টেংরা, শিংসহ নানাবিধ মাছের চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন পুকুর ও খালবিলে জাল টেনে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায় এবং কখনও স্থানীয় আড়তে হাকডাকের মাধ্যমে মাছ বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ২'শ টি ট্রাকযোগে 'লাইভ ফিশ' বা জীবন্ত মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
এদিকে, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবু সাইদ জানান, চাষিদের নানা পরামর্শ ও কর্মশালার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীল মাছ চাষের জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া মাছ রফতানি করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগে বছরে ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এরমধ্যে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে মাছ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন