প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বন্দরে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে আরসিসি (রিজিড পেভমেন্ট) ঢালাই কাজ করার অভিযোগ এসেছে। বেজমেন্টে জমে থাকা পানির মধ্যে সড়ক ঢালাইয়ের অভিযোগে এলজিইডির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ক্ষোভ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী দাবি করেছেন, রাস্তার ওপর পানি জমে নেই, তাহলে নির্মাণকাজের গুণগত মানের কোনো সমস্যা হবে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যয়ে ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৬ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থ এবং ৮ ইঞ্চি পুরুত্বের একটি সড়কের আরসিসি ঢালাই কাজ বাস্তবায়ন করছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডালিয়া ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফিরোজ মিয়া জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (২৯ জুলাই) আবার ঢালাই কাজ শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালীন ঢালাই কাজ হচ্ছে। সড়কের বেজমেন্টের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সত্ত্বেও কংক্রিটের মিশ্রণ ঢালা হচ্ছে। সদ্য ঢালাইকৃত অংশটিকে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষার জন্য শ্রমিকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। কংক্রিট এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশ্রণে কংক্রিট সরে যাচ্ছে বলেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে ও জমে থাকা পানির অবস্থায় আরসিসি ঢালাই দিলে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযোগ করা হচ্ছে, নির্ধারিত অনুপাতের তুলনায় বেশি পাথর ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, প্রতি ব্যাচে ৫ টিন (গাবলা) পাথর, ৩ টিন (গাবলা) বালু ও ১ ব্যাগ সিমেন্ট দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধের অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের তা আমলে নেওয়ার কোনো নজির দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম মিয়া বলেছেন, বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই কার্যের কারণে রাস্তার মান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোথাও কাজ সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড নেই। সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রকল্পের বরাদ্দ ও তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার আশা করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির মিয়া বলেছেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কাজ নিয়ম মেনে না হলে, কয়েক বছরের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ বন্ধ করতে বললেও সংশ্লিষ্টরা তা শোনেননি। অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ে পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাতও ঠিকভাবে মানা হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। তারপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু হলেও তা বিভিন্ন কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবার ঢালাই কাজ হচ্ছে। সব উপকরণ নির্ধারিত পরিমাণেই ব্যবহার হচ্ছে দাবি করেছেন তিনি। তবে তার নজরের বাইরে দুই-একটি ব্যাচে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলেও গুণগত মান নষ্ট হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার উপর পানি জমে না থাকলে, গুণগত মানের সমস্যা হবে না। তিনি গুণগত মানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কি না তা দেখেননি। বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে তার সহকর্মীরা বিস্তারিত উল্লেখ করতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, বৃষ্টির সময় হলে কাজ বন্ধ রাখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের অবস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের দাবি, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন