প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মধ্যরাতে এক পথচারীর ওপর মারধর করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি করেছেন যে, কথোপকথনের এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে উভয়ের মানিব্যাগ ও মোবাইল সেখানে পড়ে যায়। ঐ পড়া মানিব্যাগ ও মোবাইল তুলে তারা ফেরত দিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ত্রিবেণী রোডে 'ভাই ভাই' মেসের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আহত পথচারীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহত পথচারীর নাম শওকত জামান (৩০)। তিনি শেখপাড়ার (শৈলকূপা) উত্তর পদমদীর ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন 'আসিফ' মেসে অবস্থান করছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের ৪ জন শিক্ষার্থী। রাত ২ টায় শেখপাড়া বাজারে চা খেতে বের হয়ে ফেরার পথে এক পথচারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে মারধরের পর্যায়ে চলে যায়।
পাশ থেকে ঘটনাস্থলে লোকজন এসে দেখেন পথচারীর মাথায় আঘাত লেগে রক্ত বের হচ্ছে। প্রক্টররিয়াল বডি ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়ে আহত পথচারীকে উদ্ধার করে মেডিকেলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসার কাজ সম্পন্ন হয়।
আহত পথচারী শওকত বলেন, আমি বালু ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় একজন শিক্ষার্থী এক মিনিট কথা বলার জন্য মোবাইলটা ধার নেন। আমি মোবাইলটি দিলাম, কিন্তু কল না দিয়ে মোবাইল নিয়ে সামনে এগোচ্ছিলেন। তখন আমি বুঝতে পারার পর গালি দিলাম—এটা সত্য কথা। আরেকজন আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং পাশ থেকে টেবিলের ভাঙা-খুটি দিয়ে মারেন। আমার মানিব্যাগে ৪০ হাজার টাকা ছিল, এখন আমি ১০ হাজার পেয়েছি কিন্তু আরও ৩০ হাজার পাচ্ছি না।
অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, শেখপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে ফেরার পথে 'ভাই ভাই' মেসের সামনে আমাকে উদ্দেশ্য করে বকাবকি করছিলেন শওকত। তখন আমি বলি, ভাই কেন বকছেন? তখন তিনি ধাক্কা মারে এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই। তখন আমার বন্ধুরা এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এক বন্ধুর সঙ্গে ঐ ব্যক্তির কথোপকথনের এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়, তখন গিয়ে দেখি দুইজনই মাটিতে পড়ে আছে। সেই সময় মাটিতে ফোন ও মানিব্যাগ পড়ে যায়। তখন আমি তুলে নিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ফেরত দিই। আমাদের সকলের মোবাইলে ব্যালেন্স আছে, আমরা কেন মোবাইল নিতে চাইবো? ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইতিকথা ও ভিত্তিহীন।
জানতে চাইলে কর্তব্যরত ইবি মেডিকেল চিকিৎসক জানান, একজনকে আনা হয়েছিল। তার মাথায় পেরেকের চিহ্ন ছিল, তবে ভিতরে বেশি ঢুকে যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টররিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দান করেন। রাত ৩টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাদের উভয় পক্ষের মাঝে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন