প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তদন্ত করতে গিয়ে পরিচয়ের পর এক তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
তরুণীটির অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের কারণে করা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর এসআই আনছার আলী তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের বাথরুম ও একটি নির্জন ইটভাটায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
গত ৮ অক্টোবর, ওই ভুক্তভোগী তরুণী বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্ত করছেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম। তবে এসআই আনছার আলী ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী তরুণী জানান, ২০২২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে তার স্বামী তাকে তালাক দিলে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আনছার আলী। গত বছরের ৪ নভেম্বর, অভিযোগের তদন্তের সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয়।
তরুণীর দাবি, তদন্তের সময় এসআই আনছার আলী তার স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা আবার বিয়ে করেন। এর মধ্যে এসআই আনছার আলীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। স্বামী ঢাকায় থাকার সুযোগে আনছার আলী তাকে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। পুলিশ তদন্তকেন্দ্রেও তাদের দেখা হতো। একপর্যায়ে, তাকে ফুসলিয়ে তদন্তকেন্দ্রের বাথরুমে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী তরুণী আরও জানান, গভীর রাতে আসামি ধরতে তাদের গ্রামে গেলে এসআই আনছার আলী তার সঙ্গে দেখা করতেন। একদিন গ্রামের এক ব্যক্তি তাদের একসঙ্গে দেখে ফেলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তার স্বামীও তা জানতে পারেন। এতে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের আবার অবনতি হয়। একপর্যায়ে, তিনি বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
অভিযোগে তরুণী উল্লেখ করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর এসআই আনছার আলী তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। রাত নয়টার দিকে একটি নির্জন ইটভাটায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আনছার আলী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
তরুণীর আরও অভিযোগ, এসআই আনছার আলী প্রতিদিন তাকে অসংখ্যবার ভিডিও কল করতেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেন। এসবের ভিডিও ক্লিপ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া এসআইয়ের পক্ষ থেকে তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রায়হান তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এদিকে, এএসআই রায়হান বলেন, ওই তরুণী মাঝে মাঝে তদন্তকেন্দ্রে আসতেন। কয়েক দিন আগে এসে ডাইনিং রুমে ঘোরাফেরা করছিলেন। তখন তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছেন তিনি। ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই আনছার আলী বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওই তরুণী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়। এরপর সরল বিশ্বাসে কিছুদিন কথা বলেছেন। তবে ধর্ষণ কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও জানান, "আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।"
মোকামতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী জানান, তিনি চার মাস আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। ওই তরুণীও তার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগকারী তরুণীকে সাক্ষ্য-প্রমাণসহ কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন