প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসাবে পরিচিত মোনাকোতে গত সোমবার (২৯ জুন) ইউক্রেনীয় ধনকুবের ভাদিম ইয়ারমোলাইভের লক্ষ্য করে একটি পার্সেল বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হন ইয়ারমোলাইভ, তার নারী সঙ্গী এবং ১৩ বছর বয়সী ছেলে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একজন ইউক্রেনীয় নারীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে।
মোনাকোর প্রসিকিউটর কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জানায়, ৩০ বছরের ওই ইউক্রেনীয় নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বর্তমানে মোনাকো কিংবা ফ্রান্সের বাইরে অন্য একটি দেশে অবস্থান করছেন। ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ওই নারী জার্মানিতে বসবাস করেন।
তদন্তে পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে। ওই ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর কালো রঙের ফিশারম্যান হ্যাট পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একজন ব্যক্তি ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী শহর বুসোলেইলের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে মোনাকো পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ নথির তথ্য অনুসারে ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি জানায়, ওই ব্যক্তি কিছুটা সময়ের জন্য পুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইয়ারমোলাইভ ও তার পরিবারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে যখন পরিবারের গাড়িটি আবাসিক ভবনের পার্কিংয়ে প্রবেশ করে, তখন তিনি ভবনের কাছেই একটি পার্সেল বোমা রেখে যান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি সামান্য দূরত্বে অবস্থান করে নিশ্চিত হন যে, পরিবারের সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের ১৩ বছর বয়সী ছেলে প্রথমে ভবনে প্রবেশ করে। এরপর ইয়ারমোলাইভের নারী সঙ্গী ভবনে ঢোকার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটান। বিস্ফোরণের পরপরই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর মোনাকোর বিচার বিভাগ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। মামলাটি তিনজন তদন্তকারী বিচারকের তত্ত্বাবধানে চলছে। প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
মোনাকোর পাবলিক প্রসিকিউটর স্টেফান থিবো তদন্তে দ্রুত অগ্রগতির জন্য মোনাকোর পুলিশ ও আন্তর্জাতিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
তবে এখনও হামলার উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা সংগঠিত অপরাধচক্র কিংবা বিদেশি কোনো শক্তির সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
ইউক্রেনে ভাদিম ইয়ারমোলাইভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেন সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির একটি সূত্র দাবি করছে, ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে, যেখানে ইয়ারমোলাইভ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, সেখানে তার বহু শত্রু রয়েছে এবং তাকে হত্যার আগ্রহী মানুষের অভাব ছিল না।
অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ভাদিম ইয়ারমোলাইভের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে। কিন্তু তার নারী সঙ্গীর অবস্থায় এখনও আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণে তিনি তার দুটি পা হারিয়েছেন, এমন খবর এসেছে। ১৩ বছর বয়সী ছেলে আহত হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন