প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে আনিসুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি সম্মানজনক চাকরি নিয়ে সংসার পরিচালনা করা। সেই চাকরির আয় দিয়ে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করার আশা ছিল তাঁর। কিন্তু বছরের পর বছর ধর্না দিয়েও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাননি তিনি। শেষমেষ জীবিকার প্রয়োজনে গ্যাস বেলুনের ঝাঁপি হাতে তুলে নিয়েছেন। বরিশাল নগরীর অলিগলি ঘুরে এখন বেলুন বিক্রি করেই চার সদস্যের পরিবারের জীবন যাপন করছেন তিনি।
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার তালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান বর্তমানে বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত মনসুর আলী হাওলাদার ছিলেন একটি বাসের চালক। সীমিত আয়ের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তিনি দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
২০১৬ সালে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন আনিসুর। এরপর তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু কোথাও সুযোগ পাননি। ২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর উপর পরিবারের দায়িত্ব আসে। সংসারটিকে সচল রাখতে বিভিন্ন প্রকার কাজ করার পর গত দুই বছর ধরে তিনি গ্যাস বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বর্তমানে তিনি নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেলুন বিক্রি করে প্রতিদিন আছেন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার আয়ে। এই সামান্য আয় দিয়ে মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ চার সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি এই সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আনিসুর জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একসময় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনেও রাজপথে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পুলিশি নির্যাতনের মুখেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি তিনি।
তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে এখন আনিসুরের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় হল সংগ্রামী একজন পরিবারের কর্তা। তাঁর একটাই খোঁজ, যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সম্মানজনক চাকরি।
আবেগঘন কণ্ঠে আনিসুর রহমান বলেছেন, "পড়াশোনা শেষ করার পর আমার স্বপ্ন ছিল একটি চাকরি করব। কিন্তু আজ জীবিকার খোঁজে রাস্তায় রাস্তায় গ্যাস বেলুন বিক্রি করতে হচ্ছে। আমি কারও দান চাই না, শুধু একটি কাজের সুযোগ চাই। তাহলে পরিবারকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারব।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিএ পাস করেছি। তার পরও আজ রাস্তায় ঘুরে বেলুন বিক্রি করছি। এভাবে আর জীবন কাটাতে চাই না। যদি আমার যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তবে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন