প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য আরও তিন বছরের সময় পেয়েছে। এই বাড়তি সময়ের মধ্যে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রফতানি সুবিধাগুলো কাজে লাগানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চীন ও উরুগুয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তা অনুমোদন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের এক সভায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ওই সভায় সভাপতির আসনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বিভিন্ন দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এর ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্য ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে কাজ করছেন এবং বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান মন্তব্য করেন, "এ সিদ্ধান্তের পুরো কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি যখন বিরোধী দলের রাজনীতি করছিল, তখন তারেক রহমান প্রথম উপলব্ধি করেন যে, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এবং দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর আগে এলডিসি থেকে উত্তরণ দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনের পূর্বে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, "বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।" তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারাও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবারই ভালো ভূমিকা ছিল।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, রফতানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো কাজে লাগানোর জন্য বাড়তি সময় পাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমন সময়ে বাড়তি সময় পেয়েছে, যখন অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন