প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খাগড়াছড়ি, ১৯ জুলাই, ২০২৬ : ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বন্যাকবলিত পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা, কৃষি প্রণোদনা এবং এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আজ রোববার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন পার্বত্য জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী আজ খাগড়াছড়ি সফর করেন। সফরকালে তিনি মহালছড়ির মাইসছড়ি বাজারে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার জরুরি খাদ্য সহায়তা ও স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছে। আগামী আগস্ট মাস থেকে এ ওএমএস কর্মসূচি দেশব্যাপী চালু করা হবে।
তিনি জানান, সরকারের আগাম প্রস্তুতির কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য তিন জেলায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৬০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়েছে এবং গবাদিপশুর জন্য বিনামূল্যে খুরা রোগের টিকাও দেওয়া হয়েছে।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, যেসব পরিবার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাসিক কিস্তি পরিশোধ করছেন, তাদের অন্তত এক মাসের কিস্তি ও সুদ মওকুফের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং তাদের দ্রুত পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার দল-মত নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণকে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত 'রেইনবো জাতি' গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি-সংসদীয় আসনের সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফলিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরে, প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ি জেলা সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন