প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে বন্যার পানির ফলে একটি সাপের খামার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। খামারটি ভেসে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে মারাত্মক বিষধর গোখরাও রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকজন গ্রামবাসী ইতিমধ্যে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন, এ সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যম তথ্য জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এলাকায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরে। চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস তাদের প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ এলাকার একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে নিচু এলাকার অংশ প্লাবিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের ওই সাপের খামারটি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাপ আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং দুর্গম পরিস্থিতির কারণে তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না। দেংওয়েই গ্রামের কমিটি প্রধান উ ঝি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই সকালে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পানিতে খামারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পর অন্তত ৯০০টি সাপ পালিয়ে যায়। এতদিনে একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উ ঝি এই বিষয়ে জানান, পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়, বরং এর মধ্যে একটি বড় অংশ অঁদেশের জলসাপ এবং কিং র্যাট স্নেক।
স্থানীয় সাপচাষি লেই জানান, এলাকার খামারগুলোতে মূলত গোখরা, কিং র্যাট স্নেক এবং জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে কেবল গোখরাই মারাত্মক বিষধর। তবে অধিকাংশ সাপ দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকলে সেগুলোর বেশির ভাগই মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, সাপের খামার ধ্বংসের বিষয়টি জানার পর সামনের সারির উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে।
দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, ঘটনার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া আশপাশের গ্রামের এক ডজনের বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি বেসামরিক সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরছেন, যাতে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত না হন। দলের সদস্যরা মূলত মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভাসমান আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে সাপ ধরছেন। এছাড়া গ্রামবাসীদের সতর্ক করে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যাদের পেশাদারভাবে সাপ ধরার দক্ষতা নেই, তাদের কোনোভাবেই সাপ ধরার চেষ্টা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন