প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গ্যাস সংকটের মোকাবিলার জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করা হয়ে থাকে। এই সংকটের নিরসনে জাতীয় গ্রিডে আরো তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড নতুন তিনটি গ্যাস ও তেল কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বর্তমান সময়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এই সরবরাহের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে নতুন কূপ খনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে ডুপিটিলা-১ কূপসহ নতুন কিছু কূপ খনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানালেন, আটটি কূপের মধ্যে তিনটির খনন কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই তিনটি কূপ হচ্ছে রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ এবং কৈলাশটিলা-৯।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যদি এই তিনটি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়, তাহলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস যোগ হওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি গ্রিডে প্রতিদিন ১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। বাকি তিনটি কূপের ড্রিলিং সম্পন্ন হলে আরও ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে এলএনজি আমদানি কমাতে হলে দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও বড় আকারের গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে, যা অনুসন্ধানে জরুরি। এই কারণে দেশি ও বিদেশি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফরহাদ হাওলাদার জানাচ্ছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুসন্ধানের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ১৯৫৫ সালে দেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কার করে। পেট্রোবাংলার অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির গ্যাসকূপ থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি তেল বর্তমানে দেশের পেট্রোলের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, অকটেনের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ডিজেলের ৯ শতাংশ এবং কেরোসিনের প্রায় ২ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন