প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমানে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতাকেই বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণে রেখে জনসম্পৃক্ত ইস্যু উত্থাপন এবং নীতি নিয়ে আলোচনায় সক্ষম হতে হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতিকে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় পারদর্শী হতে হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অভিভাবক।
রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভিভাবক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদটি অনেক সময় অস্বস্তি এবং বিতর্কের সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার সরে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাধ্যবাধকতায় এখন প্রশ্ন উঠছে- ক্ষমতাসীন বিএনপি কি রাজনৈতিক নাকি অরাজনৈতিক কাউকে নির্বাচিত করবে?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ’২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম এই বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, দেশ কিন্তু একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবস্থান করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে যে ধরনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করি, সেখানে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিরোধী দল, সরকারি দল—সব জায়গা থেকেই সমর্থন পাওয়া যাবে। জনগণের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির প্রতি আস্থা তৈরি হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান এবিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) পলিসিগুলো নিয়ে পুরোপুরি কথা বলার সমর্থন করবেন, প্রয়োজনে গাইডলাইনও দিতে সক্ষম হবেন। কোনো বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে সেটিও জানাতে সচেষ্ট হবেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে একজন অনুঘটক হিসেবে কাজ করবেন।’
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক বিবেচনায় অতীত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বিএনপি নিজ মতাদর্শের কাউকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেবে। পাশাপাশি জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকেও ক্ষমতাসীনরা নজরে রাখবে।
ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেছেন, ‘একদিকে বিএনপি এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইবে না, যিনি পুরোপুরি নির্দলীয় বা নন-পার্টিজান। আবার জুলাই চার্টারে রাষ্ট্রপতিকে যে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে, বিএনপির যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলিও তারা বিবেচনায় নেবে।’
অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন—যেটিই হোক, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ছয়জনের নাম এখন পর্যন্ত বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে, যার মধ্যে চারজন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য, একজন সাবেক বিচারপতি এবং অবশিষ্টজন সরকারি চুক্তিভিত্তিক একজন সচিব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন