প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস/এএফপি) : জাপানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বৃহস্পতিবার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধার করার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, যেটি তীব্র গরমের মধ্যে হচ্ছে।
সরকার সর্বশেষ নিহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কুমামোতো কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের পর সন্দেহভাজন গ্যাস বিস্ফোরণে ধসে পড়া এইয়ন (অবড়হ) শপিংমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় একই সময়ে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে রয়েছে কংক্রিট, ইস্পাত ও তারের স্তূপ।
জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামতো প্রিফেকচারের রাজধানী শহর কুমামোতো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘শপিংমল থেকে আমরা ১০ জনকে উদ্ধার করেছি। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও একজনের শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ নেই। বাকি পাঁচজন গুরুতর ও সামান্য আহত হয়েছেন।’
মঙ্গলবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগেছে। এ কারণে কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন। সপ্তাহের শেষে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশ জাপানে উকি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের লবিতে কয়েক শত বয়স্ক মানুষ পাতলা মাদুর বিছিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতেই তারা সেখানে অবস্থান করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’ তারা সেখানে চেয়ার-টেবিলের মাঝখানে ঘুমাচ্ছেন বা টেলিভিশনের সামনে বসে খবর দেখছেন।
একজন বলেন, ‘আমি বাড়িতে থাকার বা গাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গরম খুব বেশি, আর মশারও উপদ্রব রয়েছে।’ চার সন্তানের বাবা ও সুপারমার্কেট কর্মী ৫৩ বছর বয়সী হিরোইউকি মাতসুশিমা বলেন, ‘এমন গরমে বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে যায়।’ ভূমিকম্পের পর শপিংমলটি খালি করে ফেলা হয়েছিল, তবে প্রায় ৫০ মিনিট পর সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তখন ঠিক কতজন কর্মী ভেতরে ছিলেন, তা জানা যায়নি।
৫৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ফুমিহিকো মাতসুউরা এএফপিকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে তিনি ওই শপিংমলেই সর্বশেষ ‘টয় স্টোরি’ চলচ্চিত্রটি দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ছিলাম। ঠিক এখানেই ছিলাম। মনে হচ্ছে অল্পের জন্য বিপদ থেকে বেঁচে গেছি।’ ঘটনার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা বিপদের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা বুধবার এএফপিকে জানান, ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার একটি লাল-সাদা চিমনির অংশ ধসে পড়ে। এতে পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
-বিদ্যুৎ ও পানির সংকট-
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৭০টি পরিবার ও স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৪ হাজার বাড়িতে পানির সরবরাহ ব্যাহত ছিল। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, মানুষ পেট্রোল ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কর্তৃপক্ষ কয়েক শত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পাঠিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন