প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি চরম আর্থিক অনটন—কোনো কিছুই কক্সবাজারের রামুর তিন বোনের পড়াশোনার অদম্য স্পৃহাকে দমাতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে তাদের মাটির ঘর ধসে গেলেও ছেঁড়া পলিথিনের নিচে বসে থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে উম্মে হাবিবা, উম্মে সালমা এবং জান্নাতুল মাওয়া।
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের খাসজমিতে বাস করা এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা দিল মোহাম্মদ (৬৭) পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে অটোরিকশা চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, মা রোকেয়া বেগম (৪০) জন্মগতভাবে এক চোখে দৃষ্টিহীন, রোদ উঠলে অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন।
সম্প্রতি বাকখালী নদীর পানি উপচে পুরো রামু এলাকা প্লাবিত হলে তাদের মাটির তৈরি বসতঘরের তিন পাশের দেয়াল পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে মাথার ওপর ছেঁড়া পলিথিন টাঙিয়ে ভেজা জামাকাপড় ও বই-খাতা নিয়ে দিন পার করছে পরিবারটি। বৃষ্টি থামলেই বাড়ির উঠানে পলিথিন বিছিয়ে বই নিয়ে বসে পড়ে তিন বোন। উম্মে হাবিবা মাদরাসায় অষ্টম শ্রেনিতে, উম্মে সালমা পঞ্চম শ্রেনিতে এবং জান্নাতুল মাওয়া নার্সারিতে পড়ে। তাদের ছোট একটি চার বছরের বোনও রয়েছে।
সন্তানেরা লেখাপড়ার জন্য আগ্রহী থাকা সত্ত্বেও পরিবারের অভাবে ঠিকমতো বই কিনে দিতে না পারায় বুকফাটা কান্না আর অপরাধবোধ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা রোকেয়া বেগমকে গ্রাস করছে। পঙ্গু বাবা দিল মোহাম্মদও সন্তানের এই কিছু সহ্যের কাছে অসহায় বোধ করছেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানালেন, রোকেয়া বেগমের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা, নিরাপদ বাসস্থান এবং মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন