প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে সংঘাতের পরিণামে কক্সবাজারের টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় আগের তুলনায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১ জুলাই) রাতে সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের শব্দ ভেসে আসায়, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসন এবং বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ টহল আরও জোরদার করা হয়। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানায়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে, মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে বিগত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ অন্যরকম অফিসিয়াল শব্দের সাথে ভেসে আসে। এতে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, নাইট্যংপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, প্রায় আট মাস ধরে সীমান্তে এ ধরনের শব্দ শোনা যায়নি। বুধবার রাত ৯টার পর একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে যুদ্ধবিমানের উড়াউড়ির শব্দও শোনা গিয়েছিল। এর কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা সামি জাবেদ জানান, বুধবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আর কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জালিয়াপাড়ার আরেক বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরুর সাথে সাথেই সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে, টেকনাফ ২ বিজিবির সদস্যরা নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনা করেন। এইসাথে নাফ নদীতে নৌ টহল বৃদ্ধি এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের কারণে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবি সর্বদা সজাগ অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও বিজিবি টহল জোরদার করেছে। তুমরু সীমান্তের বাসিন্দা সরওয়ার কামাল, বাইশফাঁড়ির শামশুল আলম এবং চেরার মাঠ এলাকার ছৈয়দুল বশর জানান, মিয়ানমার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং বোমা নিক্ষেপের বিকট আওয়াজ তারা শুনেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, ওপারের সংঘর্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে দেশের ভূখন্ড নিরাপদ রাখতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং দিনরাত টহল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাখাইনের মংডু এলাকায় বিমান হামলার একটি ভিডিও রোহিঙ্গাদের যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কখন নির্মিত হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তেও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন