প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে গেছে। ফেরিটিতে ছিল ১১৬ জন যাত্রী এবং নাবিক। দুর্ঘটনার পর অর্ধশতাধিক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ।
এটি গায়ানার ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে। খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায়, এখন পর্যন্ত ১৫ শিশুসহ ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখনো নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে বৃহৎ পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমার দিকে যাত্রা করে এমভি বারিমা নামের ঐ ফেরিটি। উল্লেখ্য যে, এসেকুইবো অঞ্চল ভেনেজুয়েলার সীমান্তের পার্শ্বে অবস্থিত।
রাত ১১টার কিছু পর বিপদজনক সংকেত পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। গায়ানা ডিফেন্স ফোর্সের কোস্ট গার্ড ও এয়ার কর্পস, বেসরকারি উড়োজাহাজ, মাছ ধরার নৌযান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
গায়ানার গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডঘিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে দেখা গেছে যে, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এটি একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং দুর্ঘটনাটি জোয়ারের কারণে ঘটেছে।
মন্ত্রী জানান, এমভি বারিমা একটি ৩৯৭ জন যাত্রী এবং ২৮৪ টন মালামাল বহন করার অনুমোদন পেয়েছিল। যাত্রাকালীন সময়ে এর মধ্যে ছিল ২৬৮ টন মালামাল, যা অনুমোদিত সীমার নিচে ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে ছিল ২৫০টি লাইফ জ্যাকেট, দুটি লাইফবোট এবং ছয়টি ফোলানো যায় এমন ভেলা।
এদিকে, রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানিয়েছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান এলাকা ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। সংঘটিত উদ্ধার অভিযানে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ও নৌযান যুক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় জলসীমার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জেলেদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ৬৭ জন যাত্রীর মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত।
কর্তৃপক্ষ জানাইছে, ফেরিতে থাকা যাত্রী ও নাবিকদের তালিকায় থাকা সবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জাহাজে থাকা প্রত্যেকের সন্ধান পেতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন