প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মরক্কো কানাডাকে হারিয়ে জয় উদযাপন করছে। ছবি : এএফপি
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি হিউস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর ও উত্তেজনাপূর্ণ। যখন কানাডা ও মরক্কো মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয়ে যায় একটি কৌশলগত লড়াই। উভয় দল আক্রমণ সাজানো ছাড়াও নিজেদের রক্ষণের দিকে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখে। পুরো প্রথমার্ধজুড়ে মাঝমাঠে দখলের জন্য চলছিল তীব্র লড়াই, এবং একের পর এক প্রেসিংয়ে আক্রমণ তৈরির প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। গোলের খুব বেশি সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় বিরতির আগে ম্যাচটি গোলশূন্য অবস্থায় ছিল। এই কারণে দর্শকদের মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তার জন্য উত্তেজনা বেড়ে যায়।
ম্যাচের শুরুতে কানাডার টিমের দাপট ছিল বেশী। জেসি মার্শের দল যথেষ্ট উচ্চ লাইনে নিরাপত্তা নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রেসিং চালিয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। শুরুতেই তারা কয়েকটি দ্রুত আক্রমণ এবং শটের মাধ্যমে মরক্কোকে কার্যকরভাবে ব্যস্ত রাখে। তবে গোলের সামনে তাদের অন্যতম আক্রমণ এবং বিরোধিতা ছিল অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু, যিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জন্য ম্যাচে টিকে থাকতে সাহায্য করেন।
প্রথমার্ধে মরক্কোর জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারির চোট। তিনি চোট পেয়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার চলে যাওয়ায় দলের ছন্দে কিছুটা প্রভাব পড়ে। তবে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মরক্কো ম্যাচে ফিরে আসে এবং কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর কৌশলে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে। কিন্তু বিরতির আগে কোন দলেই গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৫০তম মিনিটে আজ্জেদিন ওউনাহি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে মরক্কোকে এগিয়ে নেন। গোলের পর মরক্কো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয়। কানাডা সমতা ফেরানোর প্রচেষ্টা চালালেও মরক্কোর রক্ষণ ছিল দৃঢ় ও সংগঠিত।
৮২তম মিনিটে আবারও আঘাত হানেন ওউনাহি। তিনি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও একটি গোল করেন। এই গোল ম্যাচে কানাডার ফিরে আসার সব আশা শেষ করে দেয়।
যোগ করা সময়ের ৮ম মিনিটে (৯০+৮) সৌফিয়ান রহিমি তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। শেষ মুহূর্তের এই আক্রমণে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
মধ্যমাঠে দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই ও একাধিক শারীরিক দ্বন্দ্ব, তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতায় এগিয়ে থেকে মরক্কো ম্যাচটি জিতে নেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে ম্যাচের বিজয়ী দল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন