প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ সমাজবাদী পার্টির (এসপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই নেতার কারণে জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করছেন। ভিডিওতে সাধারণ যানবাহন বা মানুষের চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটার দৃশ্য নেই।
অভিযুক্ত নেতার নাম হাজী মোহাম্মদ উসমান। তিনি সমাজবাদী পার্টির মোরাদাবাদ জেলা শাখার সহসভাপতি এবং বিলারি আসনের বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫ ধারা (জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি) ও ২৯২ ধারায় (জনসাধারণের অসুবিধা সৃষ্টি) তার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, উসমান উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের সঙ্গে দলীয় বৈঠকে অংশ নিতে মোরাদাবাদ সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির পেছনে তাকে নামাজ পড়তে দেখা যায়। তবে মোরাদাবাদে গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের দায়ের করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সার্কিট হাউসের পথ আটকে গাড়ি পার্ক করে পেছনে নামাজ পড়ায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক ভাস্কর জানায়, সার্কিট হাউসের মতো সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়ার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহান সাক্সেনা। তার এই অবস্থানের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশ সরকারের নীতি অনুযায়ী সড়কে নামাজ পড়ার বিষয়ে কড়াকড়ি থাকলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া আইনত বেআইনি নয়। একই সময়ে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া এবং এক মুসলিম নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনি ব্যবস্থার দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন