প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাস গ্রামের একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানা যায়, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে চার্চে প্রবেশ করে ক্রস, দরজা ও পিলার ভাঙচুর করে। এছাড়া, তারা খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে হুমকি দেয়।
বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ জুলাই দুপুরে বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা চার্চের ওপর স্থাপিত তিনটি ক্রস ভেঙে ফেলে এবং নির্মাণাধীন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করেছিল। তাদের দাবি ছিল, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাদের দাবির মধ্যে ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় চার্চ নির্মাণ অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি, অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগও তোলা হয়।
আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া হামলাকারীদের একটি বক্তব্য শেয়ার করে বলেন, হামলাকারীরাও দাবি করেছে শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার শুধুই হিন্দু নারীদের। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমরা যদি অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরিত হতাম, তাহলে আজও ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হতো না।” অন্যদিকে, হামলাকারীরা চার্চের ক্রস ভাঙার সময় তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেন, তিনি নিশ্চিত নন তাদের কোনো সদস্য ওই ঘটনায় জড়িত ছিল কি না। কিন্তু তিনি এক্ষেত্রে জোরপূর্বক বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তরের বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানায়, সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত বর্তমানে চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও পুলিশ এখনও কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা দাবি করেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানান, গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান সহ বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত চারটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। সংগঠনটি জানায়, এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন