প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফেনীতে টানা বর্ষণ ও ভারতের উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তা দ্রুত নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল টার দিকে মুহুরী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৬০ মিটার। এটি বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীটির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যও স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন।
ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মোর্শেদ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। নদীর পানি বাড়তে থাকলে স্বাভাবিক থাকা সম্ভব হয় না। যদিও পানি বিপৎসীমার নিচে আছে, কিন্তু উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কী হবে, সেই শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
একই উপজেলার জগতপুর এলাকার বাসিন্দা নূর নবী জানান, গত দুই বছরও বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এবারের পানি বাড়ার খবর শুনে মানুষ আতঙ্কিত। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হলে মানুষের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এ বৃষ্টিপাত কমতে পারে।
পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার পানির বৃদ্ধির পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। গত কয়েক দিন ধরে কিছু সময় পানি বেড়লেও পরবর্তী সময়ে তা আবার কমে গেছে। সর্বশেষ আজ সকাল থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৩৫ মিটার, বিকেল ৫টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬০ মিটারে। নতুন করে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত হতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন