প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও কৌশলগত দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করে টানা অষ্টম দিনে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই আক্রমণের ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নরের বরাতে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশের শাদেগান শহরের কাছে একটি কৌশলগত স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় জরুরি উদ্ধরণকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে তারা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বারে অবস্থিত ইরানের বৃহত্তম দ্বীপ কেশমের উপকূলে অন্তত ছয়টি শক্তিশালী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। দ্বীপে উপস্থিত এক সংবাদদাতার বরাতে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দ্বীপের কিছু সামরিক স্থাপনায় এই হামলা করা হয়েছে। তবে দ্বীপে অবস্থানরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে, ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন অংশে গভীর রাতে বেশ কয়েকটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় প্রশাসনের উচুদল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। কিন্তু প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম নিউজ পরে জানায়, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা মার্কিন যুদ্ধবিমানের আক্রমণের চূড়ান্ত প্রমাণ তারা এখনো পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই দেশের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং নৌ অবরোধ নিয়ে দুই পক্ষের এই মরণপণ লড়াই বিশ্বের অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ইরান দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন