প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শীতকালীন সময়ে আবারও ফিরছে ইউরোপ, বছরের অন্যান্য সময়ের মতো। সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও বাতিলের নানা উদ্যোগ থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার রাত ৩টার সময় সময়কে পিছিয়ে রাত ২টা করা হবে। এতে করে বাসিন্দারা রাতে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা ঘুমানোর সুবিধা পাবেন। তবে এর ফলে সকালে আলো দ্রুত ফুটলেও বিকেলে বা সন্ধ্যায় অন্ধকার নেমে আসবে অনেক আগেই।
বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা ঘোরানোর এই প্রথা ইউরোপজুড়ে বহু বছর ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক অনলাইন জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই এই নিয়ম চিরতরে বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
জনমতের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সময় পরিবর্তন প্রথা বাতিলের প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাশ হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ২০২১ সাল থেকে দেশগুলো আর ঘড়ির কাঁটা বদলাবে না।
কিন্তু সদস্যদেশগুলোর মধ্যে স্থায়ীভাবে ‘গ্রীষ্মকালীন সময়’ রাখবে নাকি ‘শীতকালীন সময়’ রাখবে, তা নিয়ে কোনো ঐক্যমত্য হয়নি। একেক দেশ একেক সময় বেছে নিলে অভ্যন্তরীণ ট্রেন-বিমান চলাচল, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। করোনাভাইরাস মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিষয়টি ইউরোপীয় নেতাদের অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।
১৯৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব তেলসংকটের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে প্রথমে ফ্রান্সে এই পদ্ধতি চালু হয়। পরে ১৯৮০ সালে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও এটি অনুসরণ করতে শুরু করে। তবে গবেষকদের মতে, আধুনিক যুগে এসে এই নিয়মে জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় হয়ই না; বরং বারবার সময় বদলানোর ফলে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ (Biological Clock) বিঘ্নিত হয়ে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়।
ইউরোপের বাইরের দেশ যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে সময় পরিবর্তন হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সময় পরিবর্তন করবে ১ নভেম্বর। অন্যদিকে মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে বর্তমানে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই নিয়ম নেই।
স্থায়ী কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের বাসিন্দাদের আপাতত আগের নিয়মেই বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করে দিন চালাতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন