প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে প্রতি দিন ৪০ থেকে ৫০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ পর্যন্ত এই বিভাগের মধ্যে দুজন ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঝালকাঠি, বরগুনা এবং পিরোজপুর জেলায় দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বরিশাল নগরসহ এই বিভাগের ছয় জেলার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিভাগে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৮। ৮ জুলাই ওই সংখ্যা ছিল ৬৬, ৭ জুলাই ৬৬, ৬ জুলাই ৪৭, ৫ জুলাই ৬৩ এবং ৪ জুলাই ৬০ জন। সূত্রমতে, বিভাগের মধ্যে দুজন রোগী ডেঙ্গুর কারণে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৮ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠির পোনাবালিয়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল এবং জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষাকালে প্রতিরোধ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বন্ধ করা কঠিন হবে। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানিয়েছেন, তাঁর হাসপাতালে বর্তমানে দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। চলতি মাসে মোট রোগীর সংখ্যা আট। হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পরামর্শ দেন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণে নগরীতে ৩০টি ওয়ার্ডে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নগরের সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ বলেন, বর্ষায় ডেঙ্গু আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশন ওষুধ ছিটাচ্ছে, কিন্তু এটি নিয়মিত না হলে পরিস্থিতি হামের মতো হতে পারে। জিয়া সড়কের বাসিন্দা ও বিক্রয় প্রতিনিধি আল আমিন উল্লেখ করেছেন, সড়ক এবং খালের আশপাশে ময়লা পড়ে রয়েছে এবং পানি জমে আছে। সেখানে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মশকনিধন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বপন কুমার দাস বলেছেন, নগরীতে পাঁচটি টিমে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি টিম যেখানে দরকার হচ্ছে, সেখানে কাজ করছে। স্বপন কুমার দাস জানিয়েছেন, ৪২ জন শ্রমিক, ৪৫টি হ্যান্ডস্প্রে এবং ৩০টি ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ডেঙ্গুনিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এবং ২০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিভাগীয় কমিশনারসহ সবাইকে নিয়ে সভা এবং র্যালি ব্যবস্থা করেছেন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, জনগণ যদি সচেতন না হয়, তাহলে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে না।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুরোধে বাড়ির বাড়িতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাড়ির আশপাশে মশা ডিম পাড়ছে কি না, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কোথাও পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এস এম মনিরুজ্জামান আরও বলেছেন, জ্বর হলে আগে থেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করতে হবে। তিনি বলেছেন, সব হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন