প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে নরমাল ডেলিভারি, প্রসূতি সেবা ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় রোগীরা জরাজীর্ণ ভবন ও তীব্র জনবল সংকটে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া গেলেও, সরকারি কোনো ওষুধ পাওয়ার সুযোগ নেই। রোগীরা শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন নিজেই রোগী। যেসব কেন্দ্র গত দুই বছর ধরে নিয়মিত সরকারি ওষুধ সরবরাহ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। মাঝে মাঝে কিছু ওষুধ চলে এলেও, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু ওষুধের অভাবই নয়, ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে চৌহাট, সানোড়া ও কুল্লা— এই তিনটি কেন্দ্রের অবস্থা এখন চরম জরাজীর্ণ। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে এবং দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে জমে থাকে পানি। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভেতরেই কোনোমতে চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। নতুন ভবনের নথিপত্র চূড়ান্ত হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনো মেলেনি। এছাড়া বেলিশ্বর মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রসহ নান্নার ও কুশুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে।
জরাজীর্ণ ভবন আর ওষুধের সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালে জনবল সংকটও চেপে বসেছে। নিয়ম অনুযায়ী ১৫৫ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও, সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৭ জন। বিশেষ করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদের সংকট সবচেয়ে বেশি। ৯টি কেন্দ্রের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৪ জন। সংকট যে চরমে, তা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারাও।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রহিমা বেগম নামে এক নারী জানিয়েছেন, তিনি বাচ্চাদের ঠান্ডা জ্বরের চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তিনি প্রেশক্রিপশন পেয়েছেন কিন্তু কোনো ওষুধ পাননি। তিনি আরও বলেছেন, আমরা সরকারি ওষুধের জন্য এখানে আসি। সংসারের খরচের কারণে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হয়।
আসাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, এখানে শুধু ওষুধের অভাব নেই; ডাক্তাররাও সময়মতো আসেন না, আবার আসলেও আগেই চলে যান। প্রায় দুই বছর ধরে আমি তো ওষুধ পাই না।
এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল জানিয়েছেন, ওষুধের সংকটের পাশাপাশি আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং আশা করছেন খুব দ্রুতই বরাদ্দ সংকটের সমাধান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন