প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, ভারত থেকে দুর্গাপূজা দেখতে আসা পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের পূজার পরিবেশের প্রশংসা করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসব উদযাপনের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি বিদ্যমান। এই সর্বজনীন উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা কাম্য নয়।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, বগুড়ায় তাঁদের বাড়ির সামনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। সারা বছর তাঁরা সেই মেলার জন্য অপেক্ষা করতেন। মেলা থেকে খেলনা পিস্তল, বেলুনসহ নানা জিনিস কেনার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, একটি ধর্মের উৎসব কীভাবে অন্য ধর্মের মানুষের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বিএনপিকে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার চালানোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অতীতে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে দলটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে পারস্পরিক সম্পর্ক, আস্থা ও সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। এ কাজে দেশীয় একটি শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা যুক্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অতিরঞ্জিত প্রচার, মিথ্যাচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়। রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো গোষ্ঠীকে সাম্প্রদায়িকতা বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার চালানো হলে তা সমাজে অবিশ্বাস ও বিভেদ বাড়াতে পারে। এ ধরনের প্রচারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এর মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ ফিরে এসেছে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
বাংলাদেশে দুর্গাপূজা দেখতে ভারত থেকে আসা পর্যটকদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে অনেক পর্যটক বাংলাদেশের পূজার আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কেউ কেউ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে পূজা উদযাপনের পরিবেশকে আরও আনন্দমুখর বলে মন্তব্য করেছেন।
রিজভী বলেন, বিদেশি পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি দিক তুলে ধরে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক স্বার্থে এই সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন