প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, ভবিষ্যতে দেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও নতুন প্রজন্মের মেধার বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই, বিমানবহর শুধু ৩৫টি উড়োজাহাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেভাবে উন্নত হচ্ছে, বিকশিত হচ্ছে এবং মেধার পরিচয় দিচ্ছে, সেই সক্ষমতা অনুযায়ী আমি চাই, এ দেশে ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ থাকবে।”
মন্ত্রী ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার বিষয়ে বলেন, এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজ আসা শুরু হবে এবং ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সেগুলো দেশে পৌঁছাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বিমানবহরে যেসব উড়োজাহাজ রয়েছে, সেগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন বিমান পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা, যাত্রীসেবা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এ জন্য এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা কেবল বর্তমানের চাহিদা পূরণের বিষয় নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে দেশের বিমান পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে বিমানবহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সক্ষম অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য।
দেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনার প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করতে হবে।
বিমান পরিবহন খাতের পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের বিকাশের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।
এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সাফল্য উদযাপন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন