প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নিকটজন ও প্রতিবেশীদের কাছে সুনীতা কুশওয়াহা বলেছিলেন, তার স্বামী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর পুলিশ যখন ঘটনাটির আসল রহস্য সামনে আনল, তখন দেখা গেল, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসছে এক সাপের ঝুড়ি। জানা গেল, স্বামী আসলে স্বেচ্ছায় চলে যাননি; বরং সুনীতা ও তার প্রেমিক মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন এবং পরে মরদেহ তিন টুকরো করে গভীর বনে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা ছিল, যা অবশেষে উদঘাটন করেছে ভারতের নভি মুম্বাইয়ের পুলিশ।
পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম বলীরাম সূর্যনাথ কুশওয়াহা (৫০)। তিনি তার স্ত্রী সুনীতা কুশওয়াহার (৪০) সঙ্গে রাহুল দশরথ প্রজাপতি (৩০) নামের এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। মূলত এই সমস্যার সমাধানের জন্য বলীরামকে চিরতরে বিদায় করার নিষ্ঠুর পরিকল্পনা তৈরী করেন ওই যুগল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে প্রথমে বলীরামের দুই সন্তানকে কৌশলে তাদের খালার বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর যখন বলীরাম ঘুমিয়ে পড়েন, তখন সুনীতা ও রাহুল মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তাদের প্রমাণ লোপাটের জন্য একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বলীরামের মাথা কেটে পুরো দেহ তিন টুকরো করে ফেলা হয়। পরে এই মরদেহের টুকরোগুলো আলাদা বস্তা ও বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রাহুলের অটোরিকশায় করে নভি মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে গাভলি দেব পাহাড়ের বনের তিনটি ভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর সুনীতা সন্তানদের নিয়ে ঘানসোলি এলাকায় চলে যান এবং সেখানে রাহুলের সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। তিনি সবার কাছে দাবি করেন, তার স্বামী তাদের ফেলে চলে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় বলীরামের ভাইয়ের মনে সন্দেহ দানা বাঁধলে চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপরই এমআইডিসি পুলিশ তদন্তে নামে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ ও ঘটনার পর মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের সূত্র ধরে পুলিশ সুনীতা ও রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত এই যুগল তাদের লোমহর্ষক অপরাধের কথা স্বীকার করে।
স্থানীয় আদালত তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ গাভলি দেব বনের দুর্গম এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বলীরামের কঙ্কাল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের জন্য তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন