প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের বাজারে উপলব্ধ ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো এর এক গবেষণা প্রতিবেদনের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সুপার শপ পর্যন্ত, টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও টুথপেস্টে উপস্থিত এই পদার্থ নিয়ে এখনই উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে বিশেষ করে শিশুদের এই ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হায়দার আলী খান জানিয়েছেন, যেহেতু আমরা টুথপেস্ট খাই না, তাই আতঙ্কিত হওয়ার এমন কিছু নেই। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে, তাহলে এটি পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, এবং হৃদযন্ত্রসহ অন্যান্য শারীরিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুরা কোনোভাবেই টুথপেস্ট খেয়ে না ফেলে।
এসডো বলছে, এই গবেষণাটি আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং বাজারের মনিটরিং এবং ভোক্তা ও সরকারকে সচেতন করতেই পরিচালিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা মন্তব্য করেছেন যে, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে উৎপাদকরাও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে আগ্রহী হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম ল্যাবরেটরিতে চলমান রয়েছে পরীক্ষা।
অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানাচ্ছেন, আমাদের ৩০-৩৫টির বেশি আর্টিকেল সায়েন্টিফিক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। যেহেতু সায়েন্টিফিক ফোরাম আমাদের গবেষণা প্রকাশ করেছে, তাই আমরা যে পদ্ধতিতে গবেষণা সম্পন্ন করেছি, সেটি উপযোগী তা প্রমাণিত হয়েছে।
বিএসটিআইর মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, টুথপেস্টে কোন কোন উপাদান ব্যবহার করা যাবে এবং কোনগুলো যাবে না—সেটি নিয়ে নতুন করে মানদণ্ড নির্ধারণের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেছেন, আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করবো। যদি দেখা যায় যে আমাদের মানদণ্ডে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটি আমরা করবো।
এদিকে, এ বিষয়ে এক আইনজীবীর রিটের পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বুয়েট এবং বিএসটিআইয়ের একজন করে মোট তিনজনকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের জন্য ডাকা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টুথপেস্টে নয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরো পৃথিবীজুড়ে পানি, মাটি ও বায়ুতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন