প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তনের নাম হলো মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া। সাধারণত এটি ৫০ থেকে ৫২ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। তবে এর আগে কয়েক বছর ধরে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই জানলে এই সময়টিকে অনেক সহজভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এই পরিবর্তনটি কীভাবে শুরু হয়?
মাসিক হঠাৎ করে বন্ধ হয় না। মাসিক বন্ধ হওয়ার পূর্বে বেশ কয়েক বছর ধরে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। কখনও বেশি, কখনও কম রক্তপাত হতে পারে। এই সময়টিকে মাসিক বন্ধের আগের ধাপ বলা হয়ে থাকে।
যখন টানা ১২ মাস মাসিক না হলে সেটিকে স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। এর পরে শুরু হয় পরবর্তী জীবন পর্ব।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
এই সময় বিভিন্ন নারীর অভিজ্ঞতা একেকরকম হয়ে দেখা দিতে পারে। অনেকের উপসর্গ খুব কম থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশ তীব্র হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এছাড়াও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যেও থাকতে পারে—
কেন এই পরিবর্তন ঘটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নারী হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। এর ফলে ডিম্বাশয় ধীরে ধীরে ডিম্বাণু তৈরি বন্ধ করে দেয়, ফলে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের চিকিৎসা, ডিম্বাশয় অপসারণের অস্ত্রোপচার, বিকিরণ চিকিৎসা অথবা অন্য কোনো চিকিৎসাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের আগে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
যদি মাসিক অনিয়মিত হওয়ার পাশাপাশি এসব লক্ষণ দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। একইসাথে একই ধরনের উপসর্গের অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও পরীক্ষা করা হতে পারে।
উপসর্গ কমানোর জন্য কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা, কিছু ওষুধ, শুষ্কতা কমানোর জন্য বিশেষ ময়েশ্চারাইজার অথবা সহবাসের সময় ব্যবহারের জন্য পিচ্ছিলকারী ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ অথবা হরমোন গ্রহন পরামর্শ দেওয়া হয় না।
জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন উপকারী
এই সময় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করার মাধ্যমে উপসর্গ অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক বন্ধ হওয়া কোন রোগ নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। তবে উপসর্গ তীব্র হলে অথবা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এর মাধ্যমে এই সময়টিও স্বাভাবিক এবং স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।
সূত্র: হেলথ লাইন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন