প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এখন ভাঙনের মুখে পড়ছে। একের পর এক চাষের জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে গত তিন দিনে শতাধিক পরিবারকে তাদের বসতভিটা সরিয়ে নিতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন নির্মূল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তারা মনে করছেন, এতে স্থায়ী সমাধান মিলবে না। তারা বলছেন, তিস্তা নদী খনন ছাড়া এই সংকটের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ও খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর, ডালিয়া, ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া এবং ভেন্ডাবাড়ির নদীতীরবর্তী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষদের আহাজারি শোনা যায়।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে সেই কাজ দেখছিলেন। তাদের অনেকের মন্তব্য ছিল, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা হলেও এটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবার নদীর ডান ও বাম—দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। কারণ, নদীর তলদেশ পলিতে ভরে গেছে এবং নদী আর পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে জল প্রবাহের চাপ দুই তীরে গিয়ে পড়েছে। এজন্য দুই পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। তারা বলছেন, ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী খনন করা একান্ত প্রয়োজন। জিও ব্যাগ ফেলে কতদিন রক্ষা করা যাবে? সম্ভবত এ বছর নিরাপদ থাকবে, কিন্তু আগামী বছর আবার ভাঙনের সম্মুখীন হতে হবে। এতে কেবল সরকারি টাকার অপচয় হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খননের কোনো বিকল্প নেই। একবার নদী খনন হলে ডান-বাম কোন তীরেই আর ভাঙন হবে না।
এ বিষয়ে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিপাড়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডহড়া গ্রামে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, যে এলাকায় কোনোদিন ভাঙনের কথা ছিল না, সেখানেই এবার ভাঙন সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠার কারণে পানির স্রোত দুই তীরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এতে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর মাঝের বালু অপসারণ ও নদী খনন করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, আমি সব সময় সংসদে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা চাই সরকার দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক। একই সঙ্গে তিস্তার ডান ও বাম তীরে যে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে, তা রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন