প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণের পর কক্সবাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি সরে যেতেই সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র-বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-বেড়িবাঁধ, বিপর্যস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত। দুর্যোগের পানি কমলেও এখন বড় চ্যালেঞ্জ বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত সারানো।
কক্সবাজারের রামুর কালাখন্দকার পাড়ার রিকশাচালক মাহমুদুল হকের ঘরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু দুর্ভোগ কাটেনি। কোমরসমান পানি পেরিয়ে তিনি দেখছেন ভেঙে পড়া বসতির ঘেরা-বেড়া এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া সংসারের শেষ সম্বল।
মাহমুদুল হকের দাবি, বন্যার পানিতে আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এখনো মেলেনি কোনো সহায়তা।
গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে প্রাণহানি, বসতবাড়ি, মৎস্যখাত, কৃষি, সড়ক, বেড়িবাঁধে ভাঙনসহ ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত হয়। এরই মধ্যে সোমবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে এবং অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এরপর মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫ শতাংশ করে এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ায়। সেখানে পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চকরিয়ায় ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। কক্সবাজার সদরে তিনজন, পেকুয়া ও রামুতে দুজন করে, এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে নিহত হন।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য বলছে, নয় দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়ায়। উপজেলাটিতে ৪৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
এরপর চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি এবং মাতামুহুরীতে ১৯০টি, টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানায় জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় জেলার ১০ উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়গুলোর মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর।
তিনি বলেন, এসব পুকুর ও ঘের থেকে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৮টি পুকুর, ঘের ও খামারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে, চকরিয়ায় ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর, টেকনাফে ১৪০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নয় উপজেলায় মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাইশেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার, উখিয়ায় ৬ কিলোমিটার, টেকনাফে ৫ কিলোমিটার এবং ঈদগাঁওয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ও কালভার্টের মধ্যে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুটি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় ১৫টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কোনো তথ্য জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৯৮ মেট্টিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই হবে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষকের ফসল, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার।
সোমবার রাতে কক্সবাজারে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন থেকেই পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, স্লুইস গেটগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পাহাড়ধস রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুম এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি থাকায় আবারও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। তবে আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একই এলাকায় একাধিকবার সহায়তা পৌঁছানো কমবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তরাও দ্রুত সহায়তা পাবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো-কোনো ক্ষুধার্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। একই সাথে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
ত্রাণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে।
জিলা প্রশাসনের সীমিত নৌযানের কারণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সম্পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকার দ্রুততম সময়ে সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে ভৌগোলিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব এলাকায় একই সময়ে সহায়তা পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হয় না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন