প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহন করে বুঝিয়ে দেওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও উদাসীনতা কারণে নির্মাণ কাজ ঝুলে পড়েছে। একদিকে প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম ব্যর্থতায় মহাসড়ক জুড়ে সৃষ্ট খাদ ও খানাখন্দে জনভোগান্তি এখন চরমে পৌছেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহন শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহনের কাজ সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে উইকেয়ার (ডবঈঅজঊ) প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাস্তা নির্মাণ কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকল্পের কাজের গতির থমকে থাকার পেছনে জমি অধিগ্রহনের বিষয়টি বলা হলেও এখন মূল দায়ভার গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিঃ এবং লট-১ এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (গঅঢ) ফার্মের লোকাল প্রতিনিধি ইত্যাদির উপরে।
অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকার পরও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পরিচালনায় চরম গড়িমশি ও টালবাহানা করছে। তথ্য অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহনের জন্য সরকারের ৬টি বিভাগ জড়িত ছিল। ৬ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে তারা জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরীতে দেরি করেছে, ফলে জমি অধিগ্রহনে ধীর গতির চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকে জমির মালিকদের প্রাপ্য টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানিয়েছেন, সামনে ২১ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহনের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, "এ কাজে আমাদের কোনো গাফলতি নেই, বরং দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহনের কাজ চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের সহায়ক হয় সে ভাবেই আমরা অধিগ্রহনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।"
কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে লট-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, জমি অধিগ্রহনে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। তিনি জানান, "মার্চ ও জুলাই মাসে আমরা বেশ কিছু জমি বুঝে পেয়েছি, তাই এখন কাজও দ্রুত গতিতে বাড়বে।" তার দাবি অনুযায়ী, তাদের কাজ ১০ শতাংশের মতো এগিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে সড়কের কাজ দৃশ্যমান শুরু হবে।"
কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলার সময় লট-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ শতাংশ কাজ হয়েছে। তিনি জানান, "কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না।"
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। কাজের অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। তারা গত ১৯ জুলাই ঝিনাইদহ সফর করে সরজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জানান, "আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এটা বর্ধিত হবে কিনা তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন