প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তরফ থেকে ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচজন কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে আদান-প্রদান করা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর এটাই প্রথম ঘটনা, যখন একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হলো।
এতে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্যান্য কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশ হতে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২২ কর্মকর্তার মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন স্তরের গ্রেডে নামিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়। সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিএসইসি সরকার কর্তৃক নির্দেশিত ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে নাজেহালের ঘটনায় গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ওই মামলাটি করেছিলেন। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বিএসইসি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্য কর্মকর্তাটি আগেই অন্য একটি অভিযোগের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে গেছেন, তাই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বরখাস্ত হওয়া বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত তাদের জানায়। তবে আনুষ্ঠানিক বরখাস্তের চিঠি তারা বুধবার (১৯ আগস্ট) গ্রহণ করেন। অনেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে গিয়ে এই চিঠি গ্রহণ করেন।
এদিকে, গত বছরের ৫ মার্চ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী এসে তাদের উদ্ধার করে। বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে এসব কর্মকর্তারা ওই ঘটনা ঘটান। তারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি এই ঘটনার পর কর্মবিরতিরও ঘোষণা দেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর ফলে সংস্থাটিতে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান (সাবেক) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কমিশনার (সাবেক) মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে সভা চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ আরও কিছু কর্মকর্তা অগ্রহণযোগ্যভাবে কমিশনের সভাকক্ষে প্রবেশ করে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে। ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কমিশনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই, কমিশনের লিফট বন্ধ করে দিয়ে মারাত্মক অরাজকতা ও ভীতি সৃষ্টিকারী পরিস্থিতির পরিবেশ গড়ে তোলে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন