প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শহরের খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরোধীয় জমি দখল করে নিজ জমিতে যাওয়ার সড়ক নির্মাণ করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান কাফি। প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আধারে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের পেছনে কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার সড়ক নেই। তিনি বিদ্যালয়ের বিরোধীয় জমির ৬ শতাংশের মৌখিক বায়না সূত্রে মালিক দাবি করে সড়ক নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মামলা চলছে ওই জমির মালিকানা নিয়ে। নয়নদের পক্ষে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টে পুনঃবিবেচনার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জমি দখল ও শ্রেণি পরিবর্তন বৈধ নয় বলে জানা গেছে।
কাফি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সন্তান। তিনি ‘২৪-র গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রেখে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করে কেন্দ্রীয় সদস্য হন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমি ভোগদখলে রয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করণের পর বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল হয়ে যায়। জমি নিয়ে উচ্চ স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে দীর্ঘকাল মামলা চলমান রয়েছে। উচ্চ আদালত নয়নদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে রায় পুনঃর্বিবেচনার আবেদন করায় সেটা এখনো রয়েছে। এরই মধ্যে কাফি নয়নদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন দাবি করে রাস্তা দখল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নয়ন পাহলান বলেছেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। প্রথমে পটুয়াখালী আদালতে এবং পরে ২০২৫ সালের জুনে হাইকোর্ট থেকে পক্ষে রায় পেয়েছেন। কাফির জমিতে যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ বায়না চুক্তির মাধ্যমে তাকে এটা হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি বলেছেন, বিদ্যালয়ের পেছনে আমি ৩০ লাখ টাকায় একটি জমি ক্রয় করেছি। সেখানে যাতায়াতের জন্য কোনো সড়ক ছিল না। সড়কের জন্য প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি বলেছিলেন অপারগতা। নয়ন পাহলারা আদালতের রায় পাওয়ার পর মৌখিক বায়নার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি নিয়ে সড়ক করেছি। দিনে মেশিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। রাতে দখলের কিছু হয়নি।
কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানাচ্ছেন, সড়ক নির্মাণ না করার জন্য কাফিকে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, জমি বিদ্যালয়ের দখলেই ছিল। উচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে কাফি ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করে সড়ক নির্মাণ করছেন। তবে কোনো রায় পুনর্বিবেচনা চলাকালে বিরোধীয় জমি দখল করা যায় না। এ বিষয়ে কাফিকে নোটিশ দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন