প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম। ২০২৬ সালের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিতে এই প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের নথি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম পেট্রোবাংলাকে একটি চিঠি দিয়ে বিদেশ থেকে দরপত্রের নথি কেনার জন্য ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠানোর দাবি জানায়। এর উত্তরে ১৯ জুলাই প্রয়োজনীয় ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়।
পেট্রোবাংলা জানায়, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের কোনো স্থানীয় কার্যালয় না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি জানতে চেয়েছে যে, বিদেশ থেকেই অর্থ পাঠিয়ে দরপত্রের নথি কি কিনতে পারবে।
পেট্রোবাংলার উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেছেন, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য যথাসময়ে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের আগ্রহ ইতিবাচক বলে মনে করছে পেট্রোবাংলা।
এদিকে, ২০২৬ সালের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য তথ্যপ্যাকেজ এখন পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বেরিঙ্গিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ওনোডা ইনকরপোরেটেড, রিস্টাড এনার্জি এবং ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এই দরপত্রে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখাবে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার গত ২৪ মে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্রের এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক রয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো ১ জুন থেকে দরপত্রের নথি সংগ্রহ করতে পারে। প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর।
সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তিতে উন্নত আর্থিক সুবিধা, গ্যাসের বর্তমান মূল্য, অনুসন্ধানে নমনীয় শর্ত এবং নির্দিষ্ট শর্তে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসক্ষেত্রের জন্য ২৫ বছরের এবং তেলক্ষেত্রের জন্য ২০ বছরের উৎপাদন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো ১০ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের অফশোর দরপত্রে কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্যাকেজ সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব জমা দেয়নি। এবার ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের আগ্রহকে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন