প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঈদ, পূজা অথবা দীর্ঘ ছুটির সময় পরিবার ও পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই গ্রামে চলে যান। আবার কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে বের হন। এসব যাত্রায় কম খরচে এবং তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেন অনেকের কাছে জনপ্রিয়। তবে ছুটির মৌসুমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে টিকিট কালোবাজারি চক্রও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এমন অবস্থায় ঘরে বসে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন থেকে শুরু করে টিকিট কেনা এবং মূল্য পরিশোধ সবকিছুই করা সম্ভব।
ট্রেনের টিকিট কাটতে প্রথমে নিবন্ধন
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কিনতে হলে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ এবং সচল মোবাইল নম্বর।
নিবন্ধনের জন্য প্রথমে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ‘Register’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। তথ্য পূরণ করার পর মোবাইল ফোনে পাঠানো যাচাইকরণ কোড নির্ধারিত স্থানে বসিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
যদি সব তথ্য সঠিক থাকে, তবে নিবন্ধন সফল হওয়ার বার্তা প্রদর্শিত হবে। এরপর নিবন্ধিত তথ্য ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে লগইন করা যাবে।
যেভাবে অনলাইনে টিকিট কাটবেন
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। প্রথমে ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে লগইন করতে হবে। এরপর যাত্রার তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, ট্রেন, আসনের শ্রেণি এবং টিকিটের সংখ্যা নির্বাচন করতে হবে।
নির্বাচিত ট্রেনে আসন খালি থাকলে পরবর্তী ধাপে টিকিটের মূল্য ও আসনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে। সব তথ্য যাচাই করে ‘Purchase Ticket’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলেই কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যেভাবে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করবেন
অনলাইনে ট্রেনের টিকিটের মূল্য পরিশোধের জন্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট সাধারণত নিবন্ধিত ই-মেইলে পাওয়া যায়। কেনা টিকিটের তথ্য ওয়েবসাইট থেকেও যাচাই করা সম্ভব।
ই-টিকিট নিয়ে কীভাবে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন
টিকিট কেনার পর ই-টিকিটের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট প্রিন্ট করে অথবা রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-টিকিট দেখিয়ে ভ্রমণ করা যাবে। যাত্রার সময় টিকিটের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখতে হবে। টিকিটে থাকা যাত্রীর তথ্যের সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা হতে পারে।
সুতরাং, টিকিট কেনার আগে নাম, যাত্রার তারিখ, ট্রেন, আসন এবং গন্তব্যের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
টিকিট কাটার আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
অনলাইনে টিকিট কাটার সময় সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করা প্রয়োজন এবং নিজের পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করতে হবে। টিকিট বিক্রির নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়েবসাইটে লগইন করে প্রস্তুত থাকলে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। পাশাপাশি অননুমোদিত ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বেশি দামে টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সর্বশেষ নিয়ম, টিকিট বিক্রির সময়সূচি ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত নির্দেশনা জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করা উচিত। এতে ঘরে বসেই সহজে টিকিট কেনা যাবে এবং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের ভোগান্তি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন