প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালয়েশিয়ার আসন্ন ১৬তম সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ নতুনভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি মালয় ভূমির পরিচয় ধরে রাখতে দলমত নির্বিশেষে কেবল মালয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এই আহ্বানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বর্তমান আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারের (মাদানি প্রশাসন) সমর্থক এবং সচেতন মালয় ভোটারদের একটি বড় অংশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) শতবর্ষী এই নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিরল পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, কোনো দল বা এনজিওর প্রতি আনুগত্য না দেখিয়ে কেবল মালয় প্রার্থীদের জয়ী না করলে এ দেশ অ-মালয়দের ভূমিতে পরিণত হবে। আর তখন বিশ্ব মানচিত্র থেকে মালয় জাতির বিলুপ্তি ঘটবে।
মাহাথিরের এই অবস্থানকে সমালোচকরা কট্টরপন্থি দল ‘পাস’-এর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে মনে করছেন, যা দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির পরিপন্থি।
ড. মাহাথিরের এই আহ্বানের জবাবে সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদসহ অনেক নেটিজেন। ওই শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, ইসলাম কখনোই আল্লাহর চেয়ে নিজের জাতির প্রতি আনুগত্যকে প্রাধান্য দিতে শেখায় না। বরং বর্ণ বা বংশের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতিকেই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হিসেবে ধরা উচিত। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল ভিত্তি হওয়া দরকার আমানতদারী, ন্যায়বিচার, সততা এবং যোগ্যতা, কেবল জাতিগত পরিচয় নয়।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ হলো, এই বর্ণবাদী রাজনীতি এবং অন্য জাতির প্রতি ভয় সৃষ্টির প্রবণতা সমাজের বিভেদ বাড়াবে।
দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে মালয়েশিয়ার শাসনক্ষমতায় থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে অনেক মালয় নাগরিক রূঢ় বাস্তবতার কথা তুলে ধরছেন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের মতে, বিগত দশকগুলোতে মালয় নেতাদের হাতেই সবচেয়ে বেশি মালয়দের জমি বিক্রি হয়েছে। সাধারণ মালয়দের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাহাথির নিজে ক্ষমতায় থাকাকালীন মালয়দের ‘অলস’ এবং ‘দরিদ্র’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। তবে এখন তাঁর নিজের সন্তান এবং ঘনিষ্ঠজনেরা বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন