প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কার কারণে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সমস্ত ধরনের সভা, সমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজের সকল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে পূর্বঘোষিত 'নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন' কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অটল রয়েছে। প্রশাসন এবং ছাত্র সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ঐতিহাসিক এই বিদ্যাপীঠে থমথমে পরিস্থিতি এবং তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলস্বরূপ ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জরুরি বৈঠকে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১১৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ৮ অক্টোবর কেসি কলেজের সকল শিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য শিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রচারিত আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, 'অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের।
এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কেসি কলেজ শাখার সভাপতি এস এম মাহবুব জানান, "আমরা গত ৪ অক্টোবর কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের লিখিতভাবে কিছু জানায়নি, তবে অনুষ্ঠান না করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে আমরা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।"
অন্যদিকে, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের মধ্যে শিবিরের ঘোষিত মেগা প্রোগ্রাম ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। শেষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে কিনা কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো ঝিনাইদহবাসীর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন