প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁ সদর হাসপাতালে, যা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট, দালালদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা প্রান্তিক ও দূর-দূরান্তের অসহায় রোগীদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। রোগীদের সেবার সংকট এবং অব্যবস্থাপনার ভয় দেখিয়ে নিজেদের ক্লিনিকের দিকে টেনে নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক টেস্টের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজই এই চক্রের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ এসেছে যে, হাসপাতালের কিছু অসাধু চিকিৎসকের পরোক্ষ মদদে দিন দিন এই দালাল গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ শত থেকে ২৫ শত মানুষ চিকিৎসার আশায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভিড় করেন। সকালে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীদের দীর্ঘ লাইন জমে থাকলেও চিকিৎসা পেতে তাদের সামনে চরম ভোগান্তি চলে আসে। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগায় দালালরা।
সকাল ১০টার পর থেকেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নারী ও পুরুষ দালালদের আনাগোনা বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের অবহেলা এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবে দালালরা নির্বিঘ্নে সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে চরম হয়রানি এবং প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। পোরশা থেকে আসা রহিমা বেগম (৪৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, 'সকাল আটটায় আইসা লাইনে দাঁড়াইছি। ডাক্তার দেখাইতে পারি নাই, এর মধ্যেই এক নারী আইসা কয়, হাসপাতালে আইসিইউ খালি নাই, টেস্টের মেশিন নষ্ট। ভালো চিকিৎসা পাইতে চাইলে পাশের ক্লিনিকে যান, ওইখানে ভালো ডাক্তার বসছে। পরে তাদের কথায় বিশ্বাস কইরা ক্লিনিকে গিয়া তিন গুণ টাকা খরচ কইরা ধরা খাইছি।'
আরেক ভুক্তভোগী করিম শেখ জানান, 'জরুরি বিভাগের সামনে থিকাই দালালরা পিছে লাগে। ফ্রিতে ভালো সুবিধা দেওয়া কথা কইয়া হামাক প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়া যায়। সেখানে হাজার হাজার টাকার অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করায়। আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে আইসাও যদি এভাবে প্রতারিত হইতে হয়, তাইলে কই যামু?'
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই চিকিৎসাকেন্দ্রে ৫৬ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৩১ জন কর্মরত আছেন। পর্যাপ্ত জনবলের এই ঘাটতিকে পুঁজি করেই মূলত দালাল সিন্ডিকেট তাদের জাল বিস্তার করেছে।
নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ২৯২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যার একটি বড় অংশই সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা এবং জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান আলাল জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অনেক সময় সার্বক্ষণিক তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে খতিয়ে দেখে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন