প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চরম বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দিচ্ছে। রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করার জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী বুধবার আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোও এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ করবে। যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার পর সেখানে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তবে সেখানে এটি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও বিস্তার বৃদ্ধি পেতে পারে।
সৌদি আরব বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএআইএ)-এর সদস্য। এই সংস্থাটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির তদারকির পাশাপাশি গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম আছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করে।
তবে সূত্রের তথ্যে বলা হয়েছে, এই চুক্তিতে আইএইএর 'অতিরিক্ত প্রোটোকল' অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। এই প্রোটোকল কার্যকর থাকলে আইএইএ আরও বিস্তৃত পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের ক্ষমতা পাবেন।
এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, তখন চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণা আসছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নিজেদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নষ্ট করার কথা বলছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যদিও অতীতে দেশটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দাবি করেছিল। চুক্তির বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও রিয়াদের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—অর্থাৎ উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
যাই হোক, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য একটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পথ খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে উল্লেখ করেন, যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়; এর জন্য আরও জটিল প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করতে হবে। তবে সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সৌদি আরব সফর করে দেশটির বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্প গড়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন এর আগে।
এদিকে ইসরাইলের হামলার পর সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইসরায়েলের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত '১২৩ চুক্তি' স্বাক্ষর করে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করেনি।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা এই মডেলকেই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন