প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি এখন বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, যা অনির্দিষ্টকাল ব্যাপী হবে। গত ১৮ জুলাই থেকে মূল্য বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগে এই আমদানি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ওয়েবাউন্ডরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বুধবার (২২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিরজনের মাধ্যমে দেখা যায় যে, একসময় ট্রাকের ভিড়ে সরগরম থাকা বন্দরের ওয়্যারহাউস এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে আছে। ভারতীয় পাথরবাহী কোন ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, সেখানে গত চার দিনে একটি ট্রাকও দেশে আসেনি। এর ফলে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আমদানিকারকদের অভিযোগ হলো, ভারতীয় সরবরাহকারীরা কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের ও ছোট আকারের পাথর দিচ্ছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট আকারের পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অটো ক্রাশিং মেশিনে ভাঙার পর কাঙ্ক্ষিত মান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলস্বরূপ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পাথর কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না।
স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট শুক্কুর আলী জানালেন যে, “প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতাম। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় গত চার দিনে একটি ট্রাকও পাঠাতে পারিনি।” অন্যদিকে, আমদানিকারক আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, “কিছু দিন আগে প্রতি টন পাথরের দাম ছিল এক হাজার রুপি, কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে এক হাজার ৩০০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কমে গেছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০০ ট্রাক পাথরের প্রয়োজন, সেখানে আসছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক। এর উপর নিম্নমানের পাথর দেওয়া হচ্ছে। তাই আপাতত আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।”
সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম মন্তব্য করেছেন, “ভারতের ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন তা নির্মাণকাজের উপযোগী নয়। মান ঠিক না থাকায় ঠিকাদাররাও কিনতে চাইছেন না।” এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানিয়েছেন, “দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন