প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মঁদ এর খবর অনুসারে, বারবেরা বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গোপনে বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বঘোষিত সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বিমানবন্দরটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে।
৬ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই এই প্রকল্পের কাজ গতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর উদ্দেশ্য হলো ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে এডেন উপসাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি স্থাপন করা।
লা মঁদ এর রিপোর্ট অনুসারে, স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে এসেছে যে, বিমানবন্দরের রানওয়ের দক্ষিণ পাশে অন্তত তিনটি অঞ্চলে বড় ধরনের খননকাজ চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে সেখানে অন্তত ১৮টি বড় পরিখা খোঁড়া হয়।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ভূগর্ভস্থ গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার বা জ্বালানি ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ছবিতে দেখা যায়, পরিখাগুলো প্রথমে কনটেইনার দিয়ে পূরণ করার পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে, এসব স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৭ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বারবেরা বিমানবন্দর সামরিক কাজে ব্যবহারের অধিকার পায় আমিরাত।
এক বিমানবন্দর কর্মীও নাম গোপন রেখে জানিয়েছেন, আবুধাবি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে এই ঘাঁটি নির্মাণ কাজে যুক্ত রয়েছে।
এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) এর গত ২৭ জানুয়ারির বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্যাটেলাইট চিত্রে উঁচু মাটির প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতির বিষয়ে ধারণা করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে উত্তর সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বোসাসো বিমানবন্দরে আমিরাতের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক স্থাপনায় ২০২৫ সালের মার্চে ইসরায়েলের তৈরি এএল/এম-২০৯৪ রাডার মোতায়েন করা হয়েছিল। বারবেরার উন্নয়ন সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হতে পারে।
যদিও ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তথাপি উভয় পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার কার্যক্রম চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, সোমালিল্যান্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের জন্য গোপনে তেল আবিব সফর করেছেন এবং ইসরাইলি সামরিক প্রতিনিধিরা হারগেইসা ও বারবেরা পরিদর্শন করেছেন।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত বারবেরা বিমানবন্দরটির রানওয়ে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ, যা আফ্রিকার অন্যতম বড় রানওয়ে। এটি ১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মাণ করে। ২০১৭ সালে আমিরাত এর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর রানওয়ে সংস্কার, সামরিক হ্যাঙ্গার ও নৌ-জেটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দরটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানকার সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ব আফ্রিকাভিত্তিক একটি নিরাপত্তা সূত্র বলছে, ইসরাইলি সামরিক দল ইতোমধ্যে ঘাঁটি পরিদর্শন করেছে এবং ভবিষ্যতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের জন্য এটি ব্যবহার করা হতে পারে।
এছাড়া মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম)-এর প্রতিনিধিরা নিয়মিত বারবেরা সফর করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর আফ্রিকম প্রধান জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসনকে বারবেরা বিমানবন্দরে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জিবুতির বিকল্প সামরিক ঘাঁটির সন্ধানে রয়েছে। কারণ বাজারে মার্কিন ঘাঁটির নিকটেই চীনের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি, হুথিদের হামলার আশঙ্কায় জিবুতি ইয়েমেনে মার্কিন হামলার জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিতে চায় না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় সোমালিল্যান্ড এ ধরনের সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন