প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি পান করার অভ্যাস অনেকের মধ্যে প্রচলিত। কিছু মানুষ মনে করেন, এতে পেট পরিষ্কার থাকে, আবার অন্যরা বিশ্বাস করেন, গরম পানি শরীরের মেদ কমাতে সহায়ক। তবে খালি পেটে গরম পানি পান করলে শরীরে আসলে কী ঘটে? এর উপকারিতা কতটুকু এবং কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কুসুম গরম পানি পান করা শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে, শুধুমাত্র গরম পানি পান করলেই শরীরের সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
১. শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা হয়। পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, রক্ত সঞ্চালন এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পানি গরম বা ঠান্ডা—এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে
যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
সকালে কুসুম গরম পানি পান করলে কারও কারও মলত্যাগে স্বস্তি অনুভব হতে পারে। তবে, শুধুমাত্র গরম পানি পান করলেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
৩. হজমে স্বস্তি দিতে পারে
সকালে পানি পান করলে পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা হয়। কিছু মানুষের জন্য কুসুম গরম পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কম অনুভূত হতে পারে।
তবে গরম পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় হজমশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। হজম ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?
অনেকের ধারণা, সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করলে পেটের মেদ গলে যায়। বাস্তবে এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। খাবারের আগে পানি পান করলে কিছু মানুষের সাময়িকভাবে পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে, যা অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ।
৫. গলা ও নাকের অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে
সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার সময় কুসুম গরম পানি পান করলে গলায় আরাম অনুভব হতে পারে। উষ্ণ তরল গলার শুষ্কতা কমাতে এবং সাময়িক স্বস্তি দিতে সহায়তা করে।
তবে গরম পানি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সারিয়ে তোলে না। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৬. শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয়, সকালে গরম পানি পান করলে শরীরের সব বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। কিন্তু এই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণে যকৃৎ ও কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত পানি পান কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে, কিন্তু গরম পানি আলাদাভাবে শরীরকে বিষমুক্ত করে—এমন প্রমাণ নেই।
কীভাবে পান করবেন?
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন।
পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। খুব গরম পানি মুখ, জিহ্বা ও খাদ্যনালিতে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু সকালে নয়, সারা দিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন।
পানি পানের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন