প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মানুষ টাকার অভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে সক্ষম হন না। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এ সংকটে ভুগতে দেখা যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশই এই সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ প্রকাশিত 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এই প্রতিবেদনের সম্মিলিতভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
প্রতিবেদনটি দেখা যায়, গত বছর পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু বাংলাদেশে এই হার ৩৮.৬ শতাংশ।
'হেলদি ডায়েট বাস্কেট' বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে বোঝানো হয়েছে, এমন খাবার যা প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি প্রদান করে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল, তেল ও চর্বি—এই ছয়টি খাদ্য গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন বা ৩২.৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে। এ সংকটের হার আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি (৬৬.৬ শতাংশ)। এরপরেই অবস্থান এশিয়া (২৮.৯ শতাংশ) এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের (২৫.৭ শতাংশ)।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়ার গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩.০৯ ডলার পিপিপি থেকে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখানে পিপিপি বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা বোঝায়—যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৫৯ ডলারে যে পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব, বাংলাদেশে তেমনই পরিমাণ পণ্য কিনতে প্রয়োজনীয় স্থানীয় মুদ্রা বা টাকার হিসাব।
এই খরচের একটি বড় অংশ খরচ হয় প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল এবং শাকসবজি কিনতে। অন্যদিকে শর্করাজাতীয় খাবারের জন্য খরচ তুলনামূলকভাবে বেশ কম। দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) এবং শ্রীলঙ্কা (৫.২১ ডলার) পর বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু সেখানে এর খরচ এ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে কম (৩.৯৪ ডলার)।
স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম বাড়লেও, বাংলাদেশে এটি কেনার সামর্থ্য আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ বা ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশ বা ৬ কোটি ৭৮ লাখে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ আয় খাবারের দাম বাড়ার তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।
এ অবস্থাতেও ৫ ভাগের ২ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন উল্লেখ করেছেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা এখনও সাধ্যের বাইরে। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস এবং ফলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ এগুলি সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে, স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা খুব ধীরগতিতে কমে। ফলে, ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও স্বাস্থ্যকর খাবার এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় খরচ বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে এই খরচ ছিল ২.৯৪ ডলার এবং ২০২১ সালে ৩.৪৪ ডলার, তা ২০২৫ সালে এসে দাঁড়াচ্ছে ৪.২৮ ডলারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই খরচ ৪.৯১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে, স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২.৯৭ বিলিয়ন (৩৭.৪%) থেকে কিছুটা কমে ২.৬৯ বিলিয়নে (৩২.৭%) নামতে দেখা গেছে।
পুষ্টিকর খাবারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য এ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার খরচ কমিয়ে আনা। এছাড়াও পরিবহন ব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজার সম্পর্কিত তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্যের অপচয় রোধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন