প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়, তিস্তা নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পাতা চায়না জালে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ আটকা পড়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে উপজেলার ১ নম্বর পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন তিস্তা নদীর ওই স্থান থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জেলা সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা সাপটি উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে স্থানীয় এক বাসিন্দা মশিয়ার রহমান তিস্তা নদীতে মাছ ধরার জন্য চায়না জাল পেতে রাখেন। পরবর্তী সময়ে বুধবার সকালে জাল তুলতে যেয়ে তিনি দেখেেন, একটি বড় অজগর সাপ পেঁচিয়ে আটকা পড়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি জালসহ ওই সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাপটি একনজর দেখতে উৎসাহী জনতা জড়ো হয়। পরে খবর পেয়ে জেলা সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে অজগরটি উদ্ধার করেন।
জেলা সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার মন্তব্য করেন, খবর পেয়ে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এই সাপটি পরে রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর এবং খুব অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া সাধারণত নড়াচড়া করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী থাকে তবে শুধুমাত্র প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে এদের প্রজননকাল হয়ে থাকে। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে তাদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, অন্যান্য সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খেয়ে থাকে। সাপটি নিজের আকারের তুলনায় অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে অজগর দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত এবং তাই এটি হত্যা বা এর যে কোন ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে তা হত্যা না করার জন্য বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন